ডিভোর্স

” ওর ব্যাপারটা হলো, ও আমাকে ভালোবাসে কিন্তু যেভাবে ভালোবাসতে হয় সেভাবে বাসে না। তাই নিয়ে আমার প্রচন্ড সমস্যা হচ্ছে। ” বলল মিসেস ঝুমুর আবরার।
” কিরকম? ” কালো এপ্রনের কলার একটু টেনে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন এডভোকেট রোখসানা।
” আমরা বিয়ে করেছি দুই বছরের খানিক বেশি। বিয়ের আগে প্রেম ছিলো। প্রেম থেকেই বিয়ে। তখন থেকেই ও এই রকম। তখন মনে হয়েছিলো ঠিক হয়ে যাবে। না হলেও মানিয়ে নিতে পারবো। এখন মনে হচ্ছে আর পারছি না। ” বলে সামনে রাখা গ্লাসের সবটুকু পানি খেয়ে চুপ হহয়ে রইলো।
” বলুন। থামলেন কেন?
” সংকোচ হচ্ছে। ”
” দেখুন আমি এডভোকেট। আমার সম্পূর্ণ্টা জানতে হবে। তার উপর পুরুষও নই যে সংকোচ করবেন। কিছু ব্যাপার ভিন্ন জেন্ডারের সামনে বলতে সংকোচ হতেই পারে। নিজেদের মাঝে বলতে সেটা না অনুভব করাই ভালো। ”
” আচ্ছা বলছি। ” তারপর বলতে শুরু করলো আবার, ” আবরার শফিক ভালো ছেলে ছিলো। এখনো খারাপ বলছি না। কিন্তু সমস্যা হলো অন্য দশজন মানুষকে ও যেভাবে ট্রিট করে আমাকেও তেমনটিই ট্রিট করে। আমি আলাদা কিছু পাই না। খামখেয়ালি। যখন যেটা ভালো লাগে করছে। না ভালো লাগলে বাদ দিচ্ছে। কিছুদিন পর ভালো লাগলে আবার ধরছে। নইলে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে। ওর প্রতি আমার আবেগ অনুভুতি গুলোকেও ও এমন করেই ট্রিট করছে। আমার প্রতি আকর্ষণটা জৈবিক। মনস্তাত্ত্বিক নয় তাও না তবে সেটা দুর্বল। আসলে আমাদের কাছে আসাটা নির্ভর করে ওর জৈবিক অনুভুতির উপর। আমিও সেখানে গৌণ। আর সেটা চলে গেলে আমাকে চেনেই না মনে হয়। বরাবরের মতো আপন খেয়ালে মেতে রয়। ”
” অন্য কোন নারী? ”
” না। সেটাও নেই। কথায় কথায় একবার বলেছিলো জৈবিক কার্যকলাপ ও ঘৃণা করে একরকম। কিন্তু সেই তারণা ও’নিজেও উপেক্ষাও করতে পারে না। আমার ধারণা আমরা কাছাকাছি হবার পরে ও নিজের উপরেই বেশি বিরক্ত হয়। নিজের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে চায়। আর আমি কষ্ট পেতে থাকি আমি অবহেলিত হচ্ছি বলে। এটা খুব কষ্টকর যন্ত্রণা। বোঝাতে পারবো না। ”
” বিষয়টা সাইকোলজিক্যাল মনে হচ্ছে। সাইকিয়াটিস্ট এর কাছে যেতে পারেন। ”
” হবে না। ”
” নিশ্চিত? ”
” হ্যা। কারণ ও নিজেও জানে নিজের সমস্যাটা। আর সাইকিয়াটিস্ট দিয়ে সারানোর কিছু নেই এখানে। ও নিজের খেয়ালে চলে। সাইকিয়াটিস্ট কিছু করতে পারলেও ও সেটা মানবে না। হি ইজ হ্যাপি অন হিজ ওন ওয়ার্ল্ড। ”
” আপনি এই কারণে ডিভোর্স চাচ্ছেন? ”
” হ্যা। ”
” অন্য কোন কারণ? ”
” না। নেই। ”
” কষ্ট পাবে না আপনি ডিভোর্স নিলে? ”
” পেতে পারে। দুই এক দিন পরে নিজের খেয়ালে মেতে উঠে ঠিকও হয়ে যাবে। কিন্তু আমি ওর চাইতে বেশি কষ্ট পাবো। ও নিজেও জানে। কিন্তু প্রতিদিন কষ্ট পাওয়ার চেয়ে একবারে পাওয়াটাই ভালো। ”
” সন্তান? ”
” নেই। ”
” সন্তান না থাকলেই কোর্টের দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিধা। আচ্ছা দেখি কি করা যায়। ”

দুই দিন পর।

আবরার অফিস থেকে বাসায় গিয়ে দেখে ঝুমুর নেই। শুধু ঝুমুর নয় ঝুমুরের কোন কিছুই নেই। ঝুমুর বলেছিলো চলে যাবে। চলে গিয়েছে হয়তো। এর আগেও গিয়েছে। বাবা বোনের বাসায় কয়েক দিন থেকে চলেও এসেছে। ফ্রিজ খুলে দেখলো প্রিয় গরুর মাংসের তরকারি। ভাত তরকারি ওভেনে গরম করে খেয়ে নিলো। কম্পিউটার অন করে বসলো। রাজনীতি আর ধর্মের মধ্যবর্তি সম্পর্ক নিয়ে অনলাইনে দারুণ একটা তর্ক হচ্ছে। আবরারের বিরোধীদের যুক্তি দিয়ে কুপোকাত করতে হবে। কাল ছুটি তাই আজ সারারাত তর্ক করা যাবে।

ভোরে ঘুমুতে যাওয়ার সময় আবরার বিছানার পাশে টেবিল ল্যাম্পের নিচে এনভেলপে ভরা চিঠি পেলো, ঝুমুর তরফ থেকে ডিভোর্সের উকিল নোটিস।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s